৪০৮৯। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী, মুহাম্মদ ইবনু রুমুহ ইবনু হাজির ও কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ, সা-দ ইবনু উবাদা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট সে মানতের কথা জিজ্ঞাসা করেন, যা তার মায়ের যিম্মায় ছিল, কিন্তু তিনি তা পূর্ণ করার আগেই মারা যান। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ, তুমি তার পক্ষ থেকে তা আদায় কর।
৪০৯০। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা, আমর আন নাকিদ, ইসহাক
ইবনু ইবরাহীম, হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া, আবদ ইবনু হুমায়দ ও উসমান ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ)
সবাই যুহরী (রহঃ) এর সুত্রে লায়স (রহঃ) এর বর্নিত সনদের সমার্থক হাদীছ বর্ণনা
করেন।
৪০৯১। যুহায়র ইবনু হারব ও
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
একদা আমাদেরকে মানত কর্য থেকে নিষেধ করতে থাকেন এবং বলেনঃ যে, তা (তাকদীরের) কিছুই ফিরিয়ে দেয় না। তবে এর
মাধ্যমে কৃপনদের হাত থেকে কিছু বের করা হয়।
৪০৯২। মুহাম্মাদ ইবনু
ইয়াহইয়া (রহঃ) ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ, মানত
কোন কিছুকে না এগিয়ে আনতে পারে, আর না পিছিয়ে দিতে পারে। তবে
এর মাধ্যমে কৃপণ থেকে কিছু বের করা হয়।
৪০৯৩। আবূ বাকর ইবনু আবূ
শায়বা, মুহাম্মাদ ইবনু মূসান্না ও
ইবনু বাশশার (রহঃ) ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানত নিষেধ করেছেন। আর বলেছেনঃ, তা কোন রকম কল্যাণ বয়ে আনে না। তবে এর মাধ্যমে
কৃপণ লোকের থেকে কিছু বের করা হয়।
৪০৯৪। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি, মুহাম্মাদ ইবনু মূসান্না ও ইবনু বাশশার (রাঃ)
উক্ত সনদে জারীরের হাদীসের অনুরুপ বর্ণনা করেন।
৪০৯৫। কুতায়বা ইবনু সাঈদ
(রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মানত করো না। কারণ, মানত তাকদীর থেকে কিছু মাত্র মুক্তি দেয় না।
তার মাধ্যমে কেবল কৃপণের কিছুই বের করা হয়।
৪০৯৬। মুহাম্মাদ ইবনু
মূসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানত করতে
নিষেধ করেছেন এবং বলেছেনঃ তা তাকদীরকে ফিরাতে পারে না। এর মাধ্যমে কেবলমাত্র
কৃপণের থেকে কিছু বের করা হয়।
৪০৯৭। ইয়াহইয়া ইবনু আইউব, কুতায়বা ইবনু সাঈদ ও আলী ইবনু হুজর (রহঃ) আবূ
হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানত এমন কোনবস্তুকে মানুষের নিকটে এনে দেয় না, যা আল্লাহ তার তাকদীরে রাখেননি। কিন্তু মানত
যদি তাকদীরের অনুকুলে হয়ে যায় তখন এর দ্বারা কৃপণের সেই মাল বের করা হয়, যা বের করতে সে ইচ্ছুক ছিল না।
৪০৯৮। কুতায়বা ইবনু সাঈদ
(রহঃ) আমর ইবনু আবূ আমর (রহঃ) এর সুত্রে উক্ত সনদে অনুরুপ বর্ণনা করেন।
৪০৯৯। যুহায়র ইবনু হারব ও
আলী ইবনু হুজর সা’দী (রহঃ) ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ, সাকীফ গোত্র ছিল বনূ উকায়ল গোত্রের মিত্র।
সাফীফ গোত্রের লোকেরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দুজন
সাহাবীকে বন্দী করে। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীরা
বনূ উকায়ল গোত্রের এক ব্যক্তিকে বন্দী করে এবং তার সাথে আযবা (নান্মী উষ্ঠী)কেও
আটক করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে আসলেন। তখন সে বাধা
অবস্হায় ছিল। সে ডাক দিল , ইয়া মুহাম্মাদ ইয়া মুহাম্মদ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট এলেন এবং বললেনঃ তোমার কী
অবস্থা? সে বললো, আমাকে কী কারণে বন্দী করেছেন? আর কেনই বা হাজ্জ (হজ্জ)ীদের অগ্রগামী
উষ্ট্রীকে আটক করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ, বিরাট কারণে। তোমার মিত্র সাকীফ গোত্রের
অপরাধের জন্য তোমাকে বন্দী করেছি। এরপর তিনি তার কাছ থেকে ফিরলেন। সে আবার তাঁকে
ডেকে বলছেন, ইয়া মুহাম্মাদ! ইয়া
মুহাম্মাদ! আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন, বড়ই দয়ালু এবং নমর স্বভাবের। তাই তিনি তার দিকে
আবার এলেন, এবং বললেনঃ তোমার কি অবস্হা? সে বললোঃ আমি একজন মুসলমান। রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ, তুমি
যদি এ কথা তখন বলতে, যখন তোমার ব্যাপার তোমার
অধিকারে ছিল, তবে তুমি পুরোপুরি সফল হতে।
এরপর তিনি ফিরলেন। সে আবারও তাকে ডাক দিয়ে বললো, ইয়া
মুহাম্মাদ! ইয়া মুহাম্মাদ! তিনি আবার তার কাছে এলেন এবং বললেনঃ, তোমার কী হয়েছে? সে
বললো, আমি ক্ষুধার্ত, আমাকে খাবার দিন, এবং
তৃষ্ণার্ত, আমাকে পান করান। নাবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ, এই
তোমার প্রয়োজন। অতঃপর তাকে সেই দু-ব্যক্তির বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হয়। রাবী বলেনঃ, একবার এক আনসার মহিলা বন্দী হয় এবং আথবা নাম্বী
উষ্ট্রী (তাদের হাতে) ধরা পড়ো মহিলাটি বাধা অবস্হায় ছিল। গোত্রের লোকদের অভ্যাস
ছিল তারা তাদের পশু গৃহের সামনে রাখত। এক রাত্রে রমনিটি বন্ধন মুক্ত হয়ে পলায়ন করে
এবং উটের কাছে আসে। সে যখনই কোন উটের কাছে আসতো, উট
আওয়াজ করতো এবং তখন সে তাকে পরিত্যাগ করতো। অবশেষে সে আযবার, কাছে এসে পৌছো আযবা কোন আওয়াজ করলো না। এ
উটনী ছিল বড়ই বাধ্যগত। সে তার পিঠের উপর বসে এবং তাকে হাকায় আর সে চলতে থাকে। তখন
তারা তার পলায়ন টের পেয়ে গেল এবং তার অন্বেষণে ছুটল। কিন্তু আযবা তাদেরকে ব্যর্থ
করে দেয়। রাবী বলেনঃ, মহিলাও আল্লাহর নামে মানত
করে যে, আল্লাহ যদি এ উষ্ঠীর
সাহায্যে তাকে মুক্তি দেন, তবে সে অবশ্যই তাকে কুরবানী
করবে। ষখন সে মদিনায় পৌছে, তখন লোকজন তাকে দেখে বললো, এতো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম-এর উষ্ট্রী আযবা। তখন সে বলল যে, সে
মানত করেছে যে, আল্লাহ যদি তাকে এ উষ্ঠীর
উপর রক্ষা করেন, তবে সে অবশ্যই তাকে কুরবানী
দিবে। তারপর তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসে এবং
ঘটনাটি তাকে বললো। তিনি বললেনঃ, সুবাহানাল্লাহ কি মন্দ
প্রতিদান, যা সে তাকে দিয়েছে। সে
আল্লাহর নামে মানত করেছে যে, যদি আল্লাহ তাকে এ উষ্টীর
উপর রক্ষা করেন তবে সে তাকেই কুরবানী করে দিবে। (জেনে রাখ) পাপের ব্যাপারে মানত
করলে সে মানত পূরণ করতে নেই। আর সে বস্তুর মানতও পূরণযোগ্য নয়, যার মালিক সে বান্দা নয়। ইবনু হুজর (রহঃ) এর
বর্ণনায় আছে যে, আল্লাহর নাফরমানীর বিষয়ে
মানত সংঘটিত হয় না।
৪১০০। আবূ রাবী আল আতাকী, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) আইউব
(রহঃ) এর সুত্রে অমুরুপ বর্ণনা করেছেন। আবূ হাম্মাদ (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে আছে যে, আযবা, ইবনু
উকায়ল গোত্রের জনৈক ব্যক্তির এবং হাজীদের উটের মধ্যে অগ্রগামী। তার হাদীসে আরও আছে
যে, মহিলাটি একটি উষ্ট্রীর নিকট আসে, যা ছিল বাধ্যগত ও সাওয়ারীতে অভ্যস্ত। আর
সাকাফীর হাদীসে আছে যে, তা ছিল একটি প্রশিক্ষিত
উষ্ঠী।
৪১০১। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া
তামীমী ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) আনাস(রাঃ) থেকে বর্ণিত যে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম একবার এক বৃদ্ধকে দেখলেন যে, সেঁতার
দুই পুত্রের উপর ভর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বললেনঃ, এর অবস্হা কি? তারা বললোঃ সে হেটে যাওয়ার জন্য মানত করেছে।
তিনি বললেনঃ, এ ভাবে নিজেকে শাস্তি দেওয়ার
ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার কোন প্রয়োজন নেই। অতঃপর তিনি তাকে সাওয়ার হতে বলেনঃ।
৪১০২। ইয়াহইয়া ইবনু আইউব, কুতায়বা,ও ইবনু
হুজর (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বৃদ্ধকে দেখতে পান সে তার দুই পূত্রের
মাঝে তাদের উপর ভর দিয়ে চলেছো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাড়ী বললেনঃ, এ ব্যক্তির কী ব্যাপার? তার দুই পূত্র বললেনঃ, ইয়া রাসুলুল্লাহ! তার উপর (হেঁটে যাওয়ার) মানত
ছিল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ওহে বৃদ্ধ! তুমি আরোহণ কর।
কেননা আল্লাহ তোমার ও তোমার মানতের মুখাপেক্ষী নন। এ শব্দ হল কুতায়বা ও ইবনু
হুজর (রহঃ) এর।
৪১০৩। কুতায়বা ইবনু সাঈদ
(রহঃ) আমর ইবনু আবূ আমর (রহঃ) এর সুত্রে উক্ত সনদে অনুরুপ বর্ণনা করেন।
৪১০৪। যাকারিয়া ইবনু ইয়াহইয়া
ইবনু সালিহ মিসরী (রহঃ) উকবা ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ, আমার ভগ্নি নগ্নপায়ে হেঁটে বায়তুল্লাহ যাওয়ার
মানত করে। সে আমাকে তার পক্ষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট
ফাতওয়া জানার জন্য আদেশ করে। আমি তাঁর কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি
বললেনঃ, সে পায়ে হেঁটে ও আরোহণ করে
যাক।
৪১০৫। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি
(রহঃ) উকবা ইবনু আমির জুহানী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ, আমার ভগ্নি একবার মানত করে, পরবর্তী অংশ মুফাজ্জাল বর্ণিত হাদীসের অনুরুপ
বর্ণনা করেন। এ হাদীসে ‘হাফিয়া’ (নগ্ন পায়ে) শব্দটি উল্লেখ করা হয় নাই এবং
অতিরিক্ত বলেছেনঃ যে, ‘আবূল খায়ের (রহঃ) উকবা (রাঃ)
থেকে পৃথক হতেন না।’
৪১০৬। মুহাম্মদ ইবনু হাতিম ও
ইবনু আবূ খালফ (রহঃ) ইয়াযীদ ইবনু আবূ হাবীব (রহঃ) এর সুত্রে উক্ত সনদে আব্দুর
রাযযক (রহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরুপ বর্ণনা করেন।
৪১০৭। হারুন সাঈদ আয়লী, ইউনুস ইবনু আলা ও আহমাঁদ ইবনু ঈসা (রহঃ) উকবা
ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেনঃ মানতের কাফফারা কসমের অনুরুপ।